‘চাকরি ফিরিয়ে দে’ বলে গরুর রশি কোমরে বেঁধে মারধর
হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন সাঈদি, জানালেন ঘটনার আদ্যোপান্ত


‘মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে’ হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সাঈদি। নিজের ওপর হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
সাঈদি জানান, গতকাল বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে আসরের নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাস্তা থেকে তাকে একজন পেছন থেকে ধরে রাখেন। এরপর আরেকজন হাতুড়ি দিয়ে মাথায় এবং অন্য একজন তলপেটে আঘাত করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিনজন তাকে রাস্তা থেকে ধরে টেনে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আরও কয়েকজন যোগ দেন। পরে মোট সাত-আটজন তাকে দফায় দফায় হাতুড়ি ও গাছ দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাঈদির দাবি, হামলাকারীরা বারবার তাকে বলছিলেন—‘চাকরি এবার ফিরিয়ে দে।’ তিনি বলেন, তিনি সার্বজনীনভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন; কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নাম উল্লেখ করে কথা বলেননি। তবে হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, তিনি তাদের মেয়ের জামাইয়ের এপিবিএনের চাকরি ‘খেয়ে দিয়েছেন’।
প্রায় ৫০ মিনিট ধরে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাঈদি। একপর্যায়ে তার বৃদ্ধ বাবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকেও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার আরও ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে সাঈদি বলেন, বাড়ির এক নারী একটি গরু এনে গরুটির রশি তার কোমরে বেঁধে দেন। এরপর গরুটিকে ডানে-বামে টানতে থাকলে তিনি নিজের মৃত্যু নিশ্চিত মনে করেন। তার দাবি, ওই নারী অন্যদের বলেন—‘ভিডিও কর, গরু চোর বলে ফেসবুকে ছেড়ে দে।’
এরপর হামলাকারীরা তার মাথার চুল ও দাড়ি কেটে দেয় বলেও দাবি করেন সাঈদি।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা আবার মারধরের জন্য গাছ আনতে গেলে কোনোভাবে রশি খুলে জীবন বাঁচাতে তার চাচার কাছে আশ্রয় নেন। সেখানেও দুজন তাকে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাঈদির ভাষ্য, হামলাকারীদের বক্তব্য ছিল—মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে।
নিজের পোস্টের শেষাংশে দোয়া চেয়ে সাঈদি বলেন, সুস্থ হয়ে ফিরে আবারও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি করবেন। এমনকি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে জীবন দিতে হলেও পিছপা হবেন না বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাঈদির ওপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানায় এজাহার দায়ের করা হয়। এজাহারে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ।

পাঠকের মতামত